পড়া কেন ভুলে যাই?

    আমরা অনেক কষ্ট করে মুখস্ত করলেও বেশিরভাগই কিছুদিন পরেই ভুলে যাই। এমন হওয়ার কারণ নিয়ে আজ কথা বলতে চাই

    June 29, 2026
    4 min read
    2 views
    1000041894
    এতকিছু পড়লেও কদিন বাদে পড়া ভুলে যাই। অনেক স্টুডেন্টই আমাকে এটা মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে। সমাধান জানতে চেয়েছে। আজ এটা নিয়েই কথা বলতে চাই।

    আগে দেখো, এটা বোঝার ট্রাই করো যে আমাদের মেমরি কিভাবে ফাংশন করে? জাস্ট রেগুলার ডেইলি লাইফের এক্সপেরিয়েন্স থেকেই দেখাই ব্যাপারটা।

    তোমাকে যদি প্রশ্ন করি আজ থেকে ১৫ দিন আগে দুপুর বেলায় কি দিয়ে লাঞ্চ করেছিলে, তুমি আসলে ঠিক ভাবে বলতে পারবে না। মনে করার চেষ্টা করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। কিন্তু যদি তোমাকে জিজ্ঞাসা করি ১ বছর আগে আগে বান্দরবান ট্রিপে দুপুর বেলায় কি খেয়েছিলে, সেই ঘটনাবহুল এক্সপেরিয়েন্স কেমন ছিলো- একদম দোকানের নাম লোকেশন সহ বলে দিতে পারবে।

    ব্যাপারটা আসলে এই যে আমাদের ব্রেইন ডেইলি অনেক ইনফরমেশন রিসিভ করলেও যেটাকে সে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, যেটার সাথে কোনো কন্টেক্সট বা কাহিনী থাকে না, সেটাকে আসলে মনে রাখে না। আমরা সিমপ্লি সেটা ভুলে যাই। আমরা কেবল সেই জিনিসগুলাই মনে রাখি যেটা আমাদের লাইফে আসলেই গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের মন থেকে যেই ব্যাপারটা টপ প্রায়োরিটি পায়, যেখানে একটা গল্প থাকে, একটা এক্সপেরিয়েন্স থাকে, একটা কনটেক্সট থাকে, আমাদের ব্রেইন সেই মেমরিকে প্রিজার্ভ করে রাখে।

    পড়ালেখার ব্যাপারটাও এমন। আমরা যখন না বুঝে কোনোকিছু পড়ি বা মুখস্ত করি, আমাদের ব্রেইন এখানে কোনো গল্প বা কনটেক্সট বা এক্সপেরিয়েন্সকে লিংক করতে পারে না। ব্রেইন কাইন্ড অফ এই সিগ্ন্যালই পায় যে এই মুখস্ত একদিন পরের এক্সাম বা আইটেমে ডেলিভারি করে দিতে হবে৷ সে সেভাবেই এই মেমরি প্রিজার্ভ করে৷ তাই এই মেমরি আসলে লং রানে পারসিস্ট করে না। আমরাও এমন ইনফো সব এক্সামের কয়েকদিন পর এমনিই ভুলে যাই।

    লং রানে একটা ইনফরমেশন আসলে তখনই মনে থাকে যখন সেটার সাথে একটা লং রানের উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। একটা এক্সপেরিয়েন্স থাকে। একটা কনটেক্সট থাকে। একটা কাহিনী বা গল্প থাকে। ফর এক্সাম্পল, তোমরা প্রফে বা টার্মে অনেক উত্তরই হয়তোবা বলে এসেছো যা কয়েকদিন পর নিজেরাই ভুলে যাও। কিন্তু যা ভুল করেছো এবং সেই ভুলের জন্য স্যারের বকা খেয়েছো এটা মোটাদাগে কেউই ভুলো না, এবং মোস্ট প্রবাবলি লাইফের বাকী সময়টাতেও সেটা ভুলবে না৷ কারণ এখানে একটা এক্সপেরিয়েন্স আছে একটা গল্প আছে। আমাদের ব্রেইন আসলে এভাবেই ফাংশন করে৷

    আমরা ডেইলি লাইফে যেই কাজ করি, যেইটা চর্চা করি সেটা আমাদের জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা হিসেবেই ব্রেইন সেটাকে একনলেজ করে। আর সেটা খুব ভালো আমরা তাই মনেও রাখতে পারি। এজন্যেই দেখা যায় আমরা ডেইলি যেইটা করি সেই রিলেটেড প্রাহ সবকিছুতেই এটা ইফোর্ট ছাড়াই আমরা মনে রাখতে পারি সব। কারণ এখানে রিলেভেন্স আছে। ব্রেইন কানেক্ট করতে পারে।

    কিন্তু যেখানে রিলেভেন্স নেই কোনো রিলেশন নেই কোনো কনটেক্সট নেই, শুধু কুত্তামারা না বুঝে মুখস্ত করা আছে, ব্রেইন এটাকে আসলে মনে রাখতে পারে না। তাই এমনও হয় যে রাতের বেলা পড়লেও সকালে দেখা যায় ভুলে গেছি। এটা খুবই কমন এক্সপেরিয়েন্স আমাদের সবার। এমনকি আমার নিজেরও।

    আরেকটা ব্যাপার হলো চর্চা৷ চর্চা না থাকলে একটা সময় ব্রেইন মনে করে এই জ্ঞান বা এই এক্সপেরিয়েন্স আমাদের হয়তো আর দরকার নেই৷ আমরা সেটা আস্তে আস্তে ভুলে যেতে বসি। লং টার্ম মেমোরি তে এটা কাইন্ড অফ আল্ট্রা লং টার্ম ইভেন্টে হয়। যেমন উদাহরণ দেই। নিজের থেকেই বলি। এক কালে আমি নিজে চখাম লেভেলের ফিজিক্স ম্যাথ এসব পারতাম৷ এখন প্রবাবলি যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ বাদে আর কিছুই মনে নাই৷ নাথিং। কারণ চর্চা নাই। কেবল যেগুলার চর্চা লাইফে আছে সেগুলা মনে আছে। যেগুলার চর্চা লাইফে নাই সব ভুলে গেছি। যেমন ক্যালকুলাস কি আমি সব ভুলে গেছি৷ কিন্তু কেমিস্ট্রির যেগুলার ইউটিলাইজেশন আমাকে মেডিকেল সাইন্সে এসে করতে হইসে সেগুলা মোটাদাগে ভালোই মনে আছে। কিন্তু বাকী অনেক কিছুই আবার ভুলে গেছি।

    তো এটাও একটা ব্যাপার যে চর্চা বা প্র‍্যাক্টিস না থাকলে আস্তে আস্তে মেমরি ফেড হতে থাকে।

    আরেকটা ব্যাপার হলো সময়ের সাথে সাথে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ইনফরমেশন অনেক কিছু আমরা ভুলে যেতে থাকি। কিন্তু গ্রস কনসেপ্ট টা খেয়াল থাকে। বা যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা মনে থাকে। কিন্তু যদি এর মাঝে আরেকবার সেই ইনফরমেশন গুলো একটু রিভিশন দেওয়া হয় সেটা আবার দ্রুতই মনে পড়ে যায়।

    তাই এই যে স্টুডেন্টরা পড়লেও মনে রাখতে পারে না সেখানে লজিকাল সবগুলো কারণ আসলে ঘুরে ফিরে এগুলোই। মেজরিটি কেসে হয় স্টুডেন্টরা না বুঝে মুখস্ত করে। অথবা চর্চার অভাব।

    এটার সমাধান কি?

    সমাধান খুব সহজ।

    ১। পড়ার সময় রিলেভেন্স, কন্টেক্সট, কাহিনী, এক্সপেরিয়েন্স এগুলোকে নিয়ে শিখতে হবে। এজন্য কনসেপ্ট বেজড লেখাপড়া জরুরি।
    ২। রেগুলার চর্চা থাকতে হবে। এজন্য কিছুদিন পর পর কুইক রিভিশন খুবই হেল্পফুল। কনসেপ্ট ভালোভাবে গেইন হলে এই কুইক রিক্যাপ খুব দ্রুতই আসলে করা যায়। সেখানে রিপিটেড রিভিশন হলে মেমরি ডেপথ আরও বাড়ে।
    ৩। প্র‍্যাক্টিকাল ইমপ্লিকেশন যেখানে যেখানে পসিবল সেটা করতে হবে৷ অন্তত এই ব্যাপারে মাঝে মাঝে নিজের মাঝেই চিন্তা ভাবনা করতে হবে৷ এতে ব্রেইন ব্যাপারগুলোকে সিরিয়াস হিসেবে নেয় এবং সেটা ভালো মনে থাকে।
    Share this article:
    Last updated: June 29, 2026