
How to read Textbooks?
আমাকে এই প্রশ্নটা আসলে অনেকেই করেছে যে, স্যার, কিভাবে টেক্সটবই পড়বো? আজকে সেটার কথাই লিখবো।
টেক্সটবই পড়ার একটা আলাদা প্যাটার্ন আছে। যেকোনো চ্যাপ্টার শুরু করতে হলে জাস্ট র্যান্ডমলি আসলে বইটা খুলে স্টার্ট করলে আসলে হবে না। যেই সিস্টেম পড়ছো, সেই সিস্টেমের শুরু থেকে আসলে শুরু করতে হবে।
ধরো তুমি ফার্মাকোলজি বই ধরে পড়তে চাও। তোমার আইটেম হয়তোবা sympathomimetic agents. এখানে জাস্ট এই যায়গা থেকে বই পড়া শুরু করলে আসলে পারবে না। অনেক যায়গায় অনেক কিছুতেই আটকে যাবে। তোমাকে আসলে শুরু করতে হবে একদম ANS এর ইন্ট্রোডাকশন থেকে। যেকোনো সাব্জেক্টের ক্ষেত্রেই কথাটা সেইম। যেই সিস্টেম পড়তে চাও, সেই সিস্টেমের একদম শুরু থেকে আসলে পড়তে হবে। মাঝখান থেকে যেকোনো যায়গায় শুরু করলে আসলে হবে না।
কেন এমন?
কারণ প্রতিটা সিস্টেমের শুরুতে একটা ইন্ট্রোডাকশন আছে। কিছু ব্যাসিক আলোচনা আছে। একটা কন্টেক্সট আছে। এইটা থেকে সহজে আইটেমে প্রশ্ন আসে না দেখে কেউ পড়ে "সময় নষ্ট করতে চায় না"। যদিও এই সিস্টেম পড়তে গেলে সেটা বুঝতে হলে এই ইন্ট্রোডাকশনটাই সবার আগে জানতে হবে। কারণ ওই সিস্টেম রিলেটেড যা কিছু ব্যাসিক নলেজ দরকার সেটার আলোচনা এই শুরুতেই হয়।
পরের কথা হলো টেক্সটবুক হলো একটা কন্টিনিয়েশন। এখানে যেই আলাপ করা হয় তা বারবার রিপিটেশন হয় না। একটা নির্দিষ্ট সিকুয়েন্স মেনে এই আলাপ টা করা হয়। টেক্সটবুক এজন্য পড়ে পড়া ধরতে চাইলে সেটা আসলে এই সিকুয়েন্স বা ক্রনোলজি মেনে আগাতে হবে। তাহলেই সব কিছু আসলে মেক সেন্স করে।
এখন কেউ যদি জাস্ট র্যান্ডমলি ভাবে যে আজকে বইটা দেখি। এই বলে যে জাস্ট র্যান্ডমলি কিছু পেজ বের করে পড়তে যায় তাহলে সে আসলে যায়গায় যায়গায় আটকে যাবে। বিরক্ত হবে। অনেক কিছুই মাথার উপর দিয়ে যাবে।
কিন্তু কেউ যদি একদম বইয়ের সিকুয়েন্স অনুযায়ী একটা সিস্টেম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে, তার জন্য এক্সপেরিয়েন্স পুরোই আলাদা হবে। সে খুব সহজেই পড়াটা ধরতে পারবে।
এখানে আরও কিছু কথা আছে। বই পড়ার নিয়ম হলো প্রথমে একটা ইজি রিডিং দেওয়া। মুখস্ত করার নিয়তে না, বরং জাস্ট একটা কুইক রিডিং। একটা গল্প বা উপন্যাসের মতন জাস্ট কুইক রিডিং। আমরা তো ফেসবুক পোস্ট পড়ার সময় সেটা মুখস্ত করি না। একটা পত্রিকা পড়ার সময়েও না। একটা গল্পের বই পড়ার সময়েও না। তাই না? আমরা কি করি? একটা কুইক রিডিং দেই। জাস্ট সেখানে কি বলতে চাইসে সেটা পড়ার চেষ্টা করি। এইতো? এটাই। এভাবেই একটা ফার্স্ট রিড দিতে হবে।
এরপর সেকেন্ড রিডে একটু ধরে ধরে পড়াটা দিলে আসলে হয়ে যায়। পড়ার সময় একটা পেজ নিয়ে সেখানে ব্রেইন ম্যাপিং করতে পারলে বেস্ট হয়। আমি নিজে কঠিন কিছু পড়তে গেলে এই ব্রেইন ম্যাপিং টা সাজিয়ে নেই। একটা কাগজে নিজের মতন করে একটু সাজিয়ে নেওয়া। এটা নোট না। ম্যাপিং। কি ওয়ার্ড বা মেজর লাইন গুলো নিজের মতন একটু সাজিয়ে নেওয়া।
পড়লে আসলে এভাবে পড়তে হয়।
এতে কি অনেক সময় লাগে?
ব্যাপারটা হলো অভ্যাস। টেক্সটবই পড়া একটা অভ্যাসের ব্যাপার। হ্যা এটা সত্য যে গাইড থেকে একটু বেশি সময় লাগবে তবে অভ্যাস হয়ে গেলে এভাবে পড়তে পারলে সেটা সবচেয়ে ইফেক্টিভ উপায়। এই পড়াটা ব্রেইনে লাস্টিং হয় বেশি। বুঝতেও পারা যায় ভালোভাবে।
তবে এখানে আরেকটা সহজ উপায়ও আছে। সেটা হলো কেউ বইটা পড়ায় দেওয়া। আসলে এটাই আইডিয়াল যে মেডিকেল কলেজে শিক্ষকরা এই বইগুলো ধরে ধরে পড়িয়ে দিবেন। কিন্তু দু:খজনক বাস্তবতা এই যে এমন শিক্ষকের খুব অভাব। আইডিয়াল ব্যাপারটা এমন যে- একজন শিক্ষক প্রথমে এই কনসেপ্ট টা শেখায় দিবে। এরপর স্টুডেন্ট বইটা খুলে পড়াটা দেখে নিবে। মেডিশার্কের টিচিং ফিলোসোফি এটাই। এজন্যেই আমরা প্রায় সবসময় স্টুডেন্টদেরকে এটাই বলি যে তোমরা ক্লাস করে বইটা পড়বে। আমি ক্লাস স্লাইড বা ক্লাস নোট এগুলা আসলে খুব একটা দেই না।
এখন এভাবে পড়তে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই সময় বেশি লাগবে। গাইড পড়তে তো খুব বেশি ব্রেইন খাটানো লাগে না। কিন্তু এভাবে লাগে। কিন্তু এটাই স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে ইফেক্টিভ লার্নিং প্রসেস।

